নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:- সারদা কাণ্ডে নয়া মোড়, টাকা ফেরত না দেওয়ার চাপ কতিপয় প্রভাবশালীদের । 

সারদা ইস্যুতে চলা বারাসতে বিশেষ আদালতে শুনানির শেষে আমানতকারীদের টাকা ফেরত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে, সাংবাদিকদের বিস্ফোরক উত্তর দেন সুদিপ্ত সেন । শুনানি শেষে আদালত-চত্বরে সুদীপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে আমি প্রস্তুত ছিলাম কিন্তু টাকা ফেরত না-দেওয়ার জন্য আমার উপরে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। যাঁরা সেই সময় এমন চাপ দিয়েছিলেন, তাঁদের সকলেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মনে হচ্ছে, সারদা-কাণ্ডে সত্য কোনও দিনও উদ্ঘাটিত হবে না।’’ বৃহস্পতিবার বারাসাত আদালত চত্বরে সারদা গোষ্ঠীর কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের এই মন্তব্যের পর আরও একবার নাড়া দিয়ে উঠল সারদা প্রসঙ্গ । 

প্রসঙ্গত সারদার কর্ণধার সুদীপ্ত সেনের ডানহাত বলে পরিচিত দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করার পর, সারদার মূল হিসেবনিকেশ এর হিসাব চাওয়া হলে, দেবযানী ও সুদীপ্ত জানায় কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি সারদার কাছ থেকে কবে, কখন, কত টাকা নিয়েছেন, তা সবই লেখা ছিল একটি ‘লাল ডায়েরি’-তে । সুদীপ্ত ও দেবযানীর অভিযোগ, অন্য অনেক তথ্যপ্রমাণের সঙ্গে সেই ডায়েরিও উধাও করে দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশ যে-তথ্যপ্রমাণ সিবিআইকে দেয়, তার মধ্যে ওই ডায়েরি ছিল না। এবিষয়ে সিবিআইয়ের আধিকারিকদের বক্তব্য অনুসারে জানা যায়, সিবিআইয়ের জেরায় সুদীপ্ত বলেছিলেন, সারদার বন্ধ হওয়ার পরে শাসক দলের কিছু প্রভাবশালী নেতা তাঁকে কলকাতা ছেড়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুধু তাই নয়, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে নিষেধ করেছিলেন সেই তাঁরাই। 

এরপরই ২০১৩ সালের ১৬ এপ্রিল কলকাতা ছাড়েন সুদীপ্ত , প্রায় ৮ দিন কোন খোঁজ না মিললেও ২৩ এপ্রিল তাকে ও দেবযানীকে কাশ্মীরের সোনমার্গে গ্রেফতার করা হয়। সিবিআই অফিসারদের দাবি, সুদীপ্তকে গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত কিছু প্রভাবশালী নেতা যে তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রেখেছিলেন, তার তথ্যপ্রমাণও তাঁদের কাছে আছে। কিন্তু এসব প্রমান থাকা সত্বেও সেন সিবিআই দোষী প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না! তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন আমানতকারী থেকে শুরু করে রাজ্যের বুদ্ধিজীবী মহল । তার মানে কি “কেঁচো খুড়তে কেউটে” বেড়িয়ে আসার ভয়েই সিবিআইয়ের হাত পা বেঁধে রাখা হয়েছে, তাই নিয়েও ইতিমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে । 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]