নিউজ ডেস্ক, শ্রীনগরঃ- সকাল সকাল ভুয়ো খবরের জেরে উতপ্ত কাশ্মীর উপতক্যা । ৩৫এ ধারার শুনানির ভুয়ো খবর ঘিরে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর শুরু হয় শ্রীনগরের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ।  


সূত্রের খবর অনুসারে সোমবার সকালে যখন শ্রীনগর দিন শুরু করেছিল ঠিক সেই সময় কেও বা কারা রটাতে থাকে আজ সুপ্রিম কোর্টে জম্মু-কাশ্মীরের ৩৫এ ধারা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে। এইখবর শোনামাত্রই ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে উপতক্যার বিস্তীর্ণ এলাকা। শুরু হয় বিক্ষোভ প্রদর্শন, ঢিল ছোড়া সেইসাথে চলে দোকানপাট ভাঙচুর। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে ওঠে যে, সামাল দিতে মাঠে নামতে হয় সেনাকে । বন্ধ হয়ে যায় সব দোকানপাট , ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে ঘরে বসে থাকে আতঙ্কিত সাধারন মানুষ । এবিষয়ে খবর নাওয়া হলে জানা যায় এদিন সুপ্রিম কোর্টে ৩৫এ ধারা সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কোন কোথাও ছিল না, এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ পিটিশনের শুনানি একসঙ্গে হবে চলতি মাসের অন্তিম দিনে।



কিন্তু কি এই ৩৫এ ধারা ?? কেনই বা শুনানির খবর পাওয়া মাত্রই উতপ্ত হয়ে উঠল উপতক্যা ?? ভারতীয় সংবিধানের ধারা 35এ হল একটি প্রবন্ধ যা জম্মু ও কাশ্মিরের রাষ্ট্রীয় আইনকে রাষ্ট্রের “স্থায়ী বাসিন্দাদের” নির্ধারণ করতে এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের বিশেষ অধিকার ও বিশেষাধিকার প্রদান করে। এটি একটি রাষ্ট্রপতির আদেশ, অর্থাৎ সংবিধান (জম্মু ও কাশ্মীরের আবেদন) আদেশ, ১৯৫৪-এর ১৪ ই নভেম্বর, ভারতের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের ধারা দ্বারা প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংবিধানে যুক্ত করা হয়, ভারতীয় সংবিধান ৩৭০ এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য সরকারের সম্মতির সঙ্গে। ভারতীয় সংবিধানের ধারা 370 একটি ‘অস্থায়ী বিধান’ যা জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করে । “অস্থায়ী, ট্রানজিশনাল এবং বিশেষ বিধান” সংক্রান্ত, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ধারা 370 হল ভারতের সংবিধানের অংশ xxi অধিনস্ত একটি ধারা । সাধারন ভাবে বলতে গেলে এই ধারায়  জম্মু-কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দাদের জমিজমা , বিবাহ , সরকারি চাকরির জন্য নানান আইন আছে যেমন, জম্মু-কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা ছাড়া বহিরাগত বা ভারতের অন্য রাজ্যের কোন এখানে জমিজমা বা স্থাবর সম্পত্তি কিনতে না পাড়া, সরকারি চাকরীতে বহিরাগতদের অনঅগ্রধিকার সহ রাজ্যের কোনো মহিলা যদি অন্য রাজ্যের কোনো পুরুষকে বিয়ে করেন তবে তিনিও এই রাজ্যের বিশেষ সুবিধা হারাবেন । 


মুলত কাশ্মীরে দিনের পর দিন বিছিন্নতাবাদীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় প্রচণ্ড সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিলে সেখানকার সাধারন নাগরিকদের , সেইসাথে পাকিস্থানের মদতে সমাজের এক শ্রেণির মানুষের কাশ্মীরের যুবক যুবতীদের ভুল বুঝিয়ে নিজেদের অধিকার স্থাপন সহ কাস্মীরকে অধিগ্রহনের চক্রান্ত থেকে কাশ্মীর তথা ভারতকে বাঁচাতে ভারত সরকার এই আইনের প্রবর্তন করে, তবে ভারতের এই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে একগুচ্ছ মামলা দায়ের করা হয় সুপ্রিম কোর্টে, ‘উই দ্য সিটিজেন’ নামে দিল্লির একটি এন.জি.ও ২০১৪ সালে প্রথম এই ধারা খারিজ করার আর্জি জানায়৷ তাদের মতে, ১৯৫৪ সালের এই ধারা সংসদে পেশ করা হয়নি এটা শুধুমাত্র তৎকালীন রাষ্ট্রপতির নির্দেশমাত্র৷ তাই তারা এই নির্দেশকে মানে না । 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]