মোদি ঝড়ে জোড়া ফুল ঝরে গিয়ে ভরে উঠছে পদ্ম ফুলের বাগান । সম্পাদকীয় কলমে তৃণমূলের রং পরিবর্তন করে বিজেপিতে আসা নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন । 

 

সম্পাদকীয় বিশেষ প্রতিবেদন, দেবজ্যোতি সরকার ,কলকাতা :- বিগত ৪৮ ঘন্টা ধরে সোশ্যাল মিডিয়া, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সহ পাড়ার আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান পর্ব । আর তার জেরেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে বিজেপি নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে রাজ্যের সংঘ পরিবারের সেবকদের মধ্যে বলে প্রচার চলছে, যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠছে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল জুড়ে । তাই এখন রাজ্য রাজনীতিতে প্রশ্ন একটাই, আগামীতে রাজনৈতিক সমীকরন কি হতে চলেছে ? যাদের প্রতি তিতিবিরক্ত হয়ে জনসাধারণ বেছে নিয়েছিল বিকল্প পথ, সেই পথ-ও কি আবার নোংরা পাকে গিয়েই মিশবে !! উঠছে এরকম ধরনের নানান প্রশ্ন । 
দেবজ্যোতি সরকার (এডিটর ইন চিফ , নেশন লাইভ বাংলা)
 
এ বিষয়েই সম্পাদকীয় কলমে আজ আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন । আমি দেবজ্যোতি সরকার (এডিটর ইন চিফ , নেশন লাইভ বাংলা), এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলাম পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির নিচু স্তরের কর্মী, দলীয় নেতা সহ স্বয়ং সেবকদের সাথে । প্রসঙ্গ, প্রথম থেকে শুরু করা যাক। সদ্য সমাপ্ত হয়েছে লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে সারা ভারতবর্ষের পাশাপাশি রাজ্যের রাজনীতিও ছিল চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে । তবে সব কিছুর মাঝেই যে জোড়া ফুলের বাগানের উপর দিয়ে মোদী ঝড় বয়ে যেতে চলেছে তার আভাস কিন্তু অনেক আগে থেকেই পাওয়া গিয়েছিল । তার ফল হাতেনাতে মিলল ২৩ শে মে ।  ফল ঘোষণার পরে দেখা গেল যে কারনে বার বার বঙ্গে ছুটে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এর মত হেভিওয়েট নেতারা, তা বিফলে যায়নি । সারা রাজ্য জুড়ে ফুটে উঠেছে পদ্ম । এরপরেই শুরু হয়েছে রং বদলের পালা, সবুজ শিবির ছেড়ে একে একে প্রভাবশালী তৃণমূলের নেতারা ভিড়তে শুরু করেছে গেরুয়া ছাতার তলায় । কারণ হিসেবে তৃণমূলীদের মুখে শোনা যাচ্ছে দলে নাকি চলছে পরিবারতন্ত্র, সেইসাথে দুর্নীতিতে ভরে গিয়েছে দল । যারা এতদিন ধরে দলটাকে দাঁড় করালো তারাই থেকে যাচ্ছে ব্রাত্য আর প্রভাব খাটাচ্ছে নতুন নতুন মুখেরা । তাই বাধ্য হয়ে তৃণমূল ছেড়ে সকলে বিজেপিকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে । আর এখানেই উঠেছে প্রশ্ন সেই সাথে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভের । গত ৪৮ ঘন্টা ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়ালে ভরে উঠেছে সেই ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি, কেন বা কি কারনে যারা নিজেদের জীবনকে বাজি রেখে পশ্চিমবঙ্গের হিংসাত্মক রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে থেকেও দলের প্রচার করে গেল তাদেরকে ব্রাত্য রেখে আজ, যে তৃণমূল নেতারা বিজেপি কর্মীদের প্রতিনিয়ত ভয় দেখানো, মারধর থেকে শুরু করে কোন কিছুই বাদ রাখেনি তাদেরকে জামাই আদর করা হচ্ছে ??
 
এই বিষয়ে আমি কথা বলেছিলাম দলের উচু তলা থেকে শুরু করে নিচু তলার কর্মীদের সাথে, সেখান থেকে উঠে এসেছে পক্ষে ও বিপক্ষে নানা রকম যুক্তি । চেষ্টা করব সেগুলি আপনাদের সামনে যুক্তি সহকারে তুলে ধরার ।
 
প্রথমেই আসছি বিপক্ষে :- 
 ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরে রাজ্যে রাজনৈতিক চাণক্য বলে পরিচিত মুকুল রায়ের হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করছেন একের পর এক তাবড় তাবড় তৃণমূল বিধায়ক থেকে শুরু করে কাউন্সিলরা । যার ফলে শুরু হয়ে গিয়েছে দলে কিছু কর্মীদের মধ্যে মনোমালিন্য । তাদের বক্তব্য অনুসারে যারা এতদিন ধরে তাদের কে অপমান করে আসলো, ভয় দেখানো থেকে শুরু করে মারধর কিছুই বাদ রাখল না এমনকি তাদের ধর্ম নিয়ে সহ্য করতে হয়েছে অনেক যন্ত্রনা সেই তৃণমূল দলের নেতাদের নিয়ে দলে ঢোকানো মানেই দলের কর্মীদের সাথে বেইমানি করা ।  
 
পচা আলুর বস্তা থেকে আলু এনে ভালো বস্তায় রাখা মানে পচা আলু ছোঁয়ায় ভালো আলুও পচে যাওয়া । 
 
‌ যে হিন্দুবিদ্বেষীকতার জন্য আজ রাজ্যের সিংহভাগ হিন্দু এক ছাতার তলায় এসেছে, সেখানে হিন্দুবিদ্বেষী দলের নেতাদের আগমন সদ্য গড়ে ওঠা ভিতে আঘাত করার সমান । 
 
‌ অনেকে বলছেন অত্যাচার ও অত্যাচারী মানুষদের প্রতি এই রায়, কিন্তু যেখানে সাধারণ মানুষেরই মর্যাদা নেই সেখানে মানুষের মন ঘুরতেও কিন্তু সময় লাগে না । 
 
‌ যেখানে দলের নীতি কে বিসর্জন দিয়ে মনিরুল ইসলাম এর মত হিন্দু বিদ্বেষী কে দলে নেওয়া হলো, সেখানে যে একদিন ববি হাকিমের মত মানুষকে নেওয়া হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে ? এ বিষয়ে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হাওড়া বিজেপির টিকিটে লোকসভার প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত ।    
 
যারা তৃণমূলের খারাপ সময় দল ছেড়ে পালিয়ে আসছে তারা যে বিজেপির খারাপ সময় হলে দলে থাকবে না সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাই তৃণমূল নেতাদের দলের না নেওয়া আর্জি জানিয়েছেন বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া কর্মীরা ।                        
 
‌পশ্চিমবঙ্গে সমস্ত দল মিশে গিয়ে একটি পাঁচমিশালি দল তৈরি হচ্ছে বলেও কটাক্ষ করা হচ্ছে।
এবার আসছি পক্ষে :-
 
 লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে চলছে রং বদলের পালা , আর তাতেই বিজেপির নিচুতলার কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ডলের কর্মী, নেতা, নেত্রীদের মধ্যেও ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে । এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দিক সামাল দিতে মাঠে নেমেছেন বিজেপি রাজ্য স্তরের নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রস্তরীয় নেতারাও । 
 তৃণমূলের রং বদলে বিজেপিতে আশা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তিনি জানান,  বিজেপির কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম নীতি ও অনুশাসন রয়েছে, কেউ যদি তৃণমূল থেকে চলে এসে দলে নিজের ছড়ি ঘোরাতে চাইলে তা বরদাস্ত করা হবে না । তৃণমূল থেকে আগতদের দলে স্বাগত জানানো হচ্ছে শুধুমাত্র রাজ্যে তৃণমূলকে কমজোর করার জন্য । তাই তিনি দলীয় কর্মীদের আশ্বস্ত করে, দলের উপর এবং উচ্চ নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যদি কেউ তৃণমূল থেকে বিজেপি তে এসে দাদাগিরি চেষ্টা করে তবে তাকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করা হবে ।                                                       
মুকুল রায় প্রসঙ্গে নিজের মতামত দিতে গিয়ে বিজেপি কিছু শীর্ষস্তরিও নেতা ও নেত্রীরা এ বিষয়ে মুকুল রায়ের ঢালাও প্রশংসা করে বলেছেন বঙ্গে বিজেপি উত্থানের পেছনে যেমন রাজ্যের বিজেপি কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম অনস্বীকার্য ঠিক তেমনি মুকুল রায়ের অবদান কিন্তু ভোলার নয় । কারণ তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসার পর মুকুল রায় স্বচেস্টায় বিজেপিকে মানুষের মধ্যে আনতে সক্রিয় হয়েছিলেন । কারণ হিসেবে তারা বলছেন অবশ্যই বঙ্গের কিছু অঞ্চলে বিজেপির অল্পবিস্তর প্রভাব ছিল কিন্তু কোন প্রচার ছিল না, কারণ বঙ্গের হিংসাত্মক রাজনীতি, একনায়কতন্ত্রকে উপেক্ষা করে সেই ভাবে বিজেপি মানুষের মাঝখানে আনা সম্ভবপর হয়ে উঠছিলনা, কিন্তু রাজনৈতিক চাণক্য বলে পরিচিত মুকুল রায় তার কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পারদর্শিতার মধ্য দিয়ে বিজেপিকে বাংলায় একটি জায়গায় নিয়ে এসেছে যেখান থেকে শুধুমাত্র নিজের মুকুল রায় সাংগঠনিক ক্ষমতা অনেকটা চুম্বকের মত কাজ করেছে ।          
 
‌তাই সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি মুকুল রায়ের হাত ধরে অন্য দল থেকে নেতা-নেত্রীরা বিজেপিতে আসতে চায় সে ক্ষেত্রে ভুল বা খারাপ কিছুই দেখছে না রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা কারণ বিজেপির প্রধান লক্ষ্য হলো পশ্চিমবঙ্গের সাংগঠনিক জোর বৃদ্ধি করা আর সেটা তখনই সম্ভব যখন নিজেদের ভিত মজবুত হবে এবং বিরোধী দলের ভিত নড়বড়ে হবে। তবে সবক্ষেত্রেই সাধারণ কার্যকর্তা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার বার বলা হচ্ছে বিজেপি কিছু নির্দিষ্ট নীতি অনুসরণ করে চলে কারণ বিজেপি একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক দল তাই অন্য দল থেকে কেউ এলে যে সে এখানে প্রভাব খাটাতে পারবেন অথবা নেতা হয়ে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে সামর্থ্য হবে সেই ধারণাটা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল, তাই কোন প্ররোচনায় পা না দিয়ে দলীয় কর্মীদের উচিত দলের উপর বিশ্বাস এবং আস্থা বজায় রাখা । এই বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ত্রিপুরা মডেলকে উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরেছে ।                                                                    
কিছু কিছু নেতা নেত্রীরা আবার এই প্ররোচনা ছড়ানোর পেছনে তৃণমূলকেই দায়ী করে বলছেন, তৃণমূল বিজেপির ঘরে দ্বন্দ্ব বানানোর চেষ্টায় এই ধরনের মন্তব্য সকলের সামনে তুলে ধরছে, সেখানে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য ক্ষমতা দখল করতে গেলে সবার আগে শত্রুর ঘর ভাঙতে হয়। সেটাই হচ্ছে আগামী দিনেও সেটাই হবে। উদাহরণ স্বরূপ হলদিয়ার লক্ষণ শেঠও পার্টিতে এসেছিল পদ না পেয়ে আবার বিজেপি ছেড়ে চলে গেছে। এমনকি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসার পরেও মুকুল রায়কে দীর্ঘদিন কোনো পদ কিন্তু দেওয়া হয়নি ঠিক তেমনি মুকুল, অর্জুনকে দেখে নিজেরা অস্তিত্ব সংকটে ভুগবেন না ।  আপনাদের মত পুরোনো কর্মীরা বর্তমান রাজ্য সরকারের একনায়কতন্ত্র কে উপেক্ষা করে দলকে রাজ্যে ক্ষমতায় আনতে সচেষ্ট হচ্ছিলেন না তাই তাদের দরকার হয়েছে। তবে নিশ্চিন্ত থাকুন দলে তাদের ক্ষমতা কতটা হবে সেটা কিন্তু ঠিক হবে উপর থেকেই ।                                             
এ ব্যাপারে সংঘ পরিবার ও জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের সাথে কথা কথা বললে তারা এই বিষয়ে বিশেষ করে মনিরুল ইসলামের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্বয়ং সেবক একনাথ রানাডে কথা তুলে ধরে বলেন – “এই সমাজে দুই ধরনের মানুষ রয়েছে । যার মধ্যে একদল আমাদের সাথে রয়েছে এবং আরেকদল  ভবিষ্যতে আমাদের সাথে আসবেন” । সকলকে নিয়েই কোন রাজনৈতিক দল তৈরি হয়, যারা একদা কংগ্রেস ছিল তারা সিপিএম হয়েছে, সিপিএম থেকে তৃণমূলে হয়েছে এখন তৃণমূল থেকে বিজেপি তে আসছে । তাই অন্য দলের লোক নিতে আমাদের কোন আপত্তি থাকার কথা নয় বরং সেটাই আমাদের উদ্দেশ্য । তবে সেই সাথে এটা মাথায় রাখতে হবে যারা আমাদের আদর্শে বিশ্বাসী নয় তাদের সঙ্গে আমাদের উচিত সুসম্পর্ক স্থাপন করে আদর্শ ও জাতীয়তাবাদী সংস্কারের প্রভাব তাদের মনের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা । হিন্দু সমাজ যতদিন সক্ষম ও সবল ছিল ততদিন শক, হূণ, কুষাণ সকলেই হিন্দু সমাজের ওতপ্রোত ভাবে মিশে গিয়েছে৷ যখন সমাজ দুর্বল হয়েছে তারপরেই অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে৷ সেই সুযোগেই সেমিটিক মতগুলি হিন্দু সমাজ থেকে মানুষকে টেনে বের করে নিয়ে গিয়েছে৷ প্রক্রিয়াটাকে ওল্টাতে হবে৷ তাদের মতে এটাই মণিরুলের ‘ঘরে ফেরা’-র যাত্রা শুরু হল একই পথ দিয়ে ঘরে ফিরবে অন্যান্য পথভ্রষ্টরাও । তাই বিচলিত না হয়ে নিজেদেরকে আরো শক্তিশালী হয়ে নবাগতদের নতুন আদর্শে চালানোর জন্য অনুপ প্রেরিত করার আহ্বান জানান সেবকেরা । 
 
আমরা জানি, এই ধরনের প্রতিবেদন করার পর সমাজের একশ্রেণীর মানুষের কাছ থেকে সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এবং তারা সেটাকে ইস্যু করে চেষ্টা করা হবে জঘন্য রাজনীতি করার তাই সেখানে দাঁড়িয়ে আমার এবং নেশন লাইভ বাংলা পরিবারের স্বীকার করতে কোন অসুবিধা নেই যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিশেষ কিছু মানুষের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে আমরা রাষ্ট্রবাদের পক্ষে আমাদের জন্মলগ্ন থেকেই ছিলাম, আজও আছি এবং ভবিষ্যতেও সেই পথেই হাঁটব ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]