নিউজ ডেস্ক, আগরতলাঃ- ”এইডস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য ”


আজ ১লা ডিসেম্বর, বিশ্ব এইডস দিবস । বিশ্ব এইডস দিবসের প্রাক্কালে, ”এইডস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্য ” নিয়ে ৩০শে সেপ্টেম্বর সন্ধ্যে বেলায় ত্রিপুরা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর, ত্রিপুরা সরকারের অধীনস্থ ত্রিপুরা রাজ্য স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি এবং ত্রিপুরা রাজ্য এন এস এস ইউনিটের যৌথ উদ্যোগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গনে মোমবাতি প্রজ্জলন ও এইডস বিষয়ক সমাজ সচেতনতা মূলক আর্ট প্রদর্শনী হয় । এই সমাজ সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও শুভ উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শ্রী সুদীপ রয় বর্মন । এই মহৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে উদ্যোক্তাদের প্রতি শুভ কামনা জ্ঞাপন করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন আমার দৃঢ় বিশ্বাস “এইডস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ” নিয়ে এগিয়ে যাব আমি এবং আমাদের রাজ্য সরকার । 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতবর্ষের সমস্ত রাজ্যগুলিতে এইচআইভি এইডসের সংক্রমণের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেলেও এখনও ব্যাতিক্রম উত্তর পূর্ব ভারতের মেঘালয়, মিজোরাম, মনিপুর এবং ত্রিপুরা । উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে উদ্দীপক ওষুধ ব্যবহারকারী (আইডিইউ) এবং অনিরাপদ যৌন অভ্যাসের ঝুঁকির কারণে বাড়ছে এইচআইভি । এই ৪টি রাজ্যের মধ্যে মিজোরাম এবং ত্রিপুরা সবথেকে এগিয়ে আছে । জানা যায়, মিজোরামে চারটি এবং ত্রিপুরাতে চারটি স্থানে এইচআইভির উচ্চতর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। 

জাতীয় এইডস কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (নেকো) উত্তর পূর্ব ভারতের একটি সমীক্ষা চালায়, সেই সমীক্ষায় উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী এই মুহূর্তে জনসংখ্যার বিচারে এইচআইভি এইডসের সংক্রমণের পরিমাণ যথাক্রমে মিজোরাম (1.19 শতাংশ), নাগাল্যান্ড (0.8২ শতাংশ), মেঘালয় (0.73 শতাংশ), মণিপুর (0.47 শতাংশ) এবং (ত্রিপুরা (0.56 শতাংশ) । ২017 সালের ডিসেম্বরে নেকো সবকটি রাজ্যের কয়েকটি কেন্দ্র তৈরি করে এক সমীক্ষা করে । দেখা যায়,  উত্তর-পূর্ব রাজ্যের রাজ্যের গর্ভবতী নারীদের মধ্যে এইচআইভি প্রজনন বেড়েছে, যা সারা ভারত জুড়ে চিন্তার বিষয় । মিজোরামে ছয়টি কেন্দ্র, মেঘালয় দুটি এবং ত্রিপুরায় একটি কেন্দ্র এইচআইভি প্রজনন রেকর্ড করেছে ।  

তবে এর মধ্যেও ত্রিপুরা কিন্তু এই মারন সংক্রমণ রোগ এইডসের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, ত্রিপুরা রাজ্য স্টেট এইডস কন্ট্রোল সোসাইটি এবং রাজ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দপ্তর কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের সহযোগিতায় । রাজ্য সরকারের এইডস মুক্ত ত্রিপুরা গড়ার জেদ-ই কিন্তু নিজেদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে । মানুষের কাছে এইডস কি ? কিভাবে ছড়ায় ? প্রতিকারের উপায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য গ্রহন করা হয়েছে নানান প্রকল্প । ক্যাম্প করে সচেতনতা মূলক প্রচার চালানো হচ্ছে , রাজ্য সরকারের এই মহৎ উদ্দেশ্যকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে রাজ্যের মিডিয়া হাউস গুলোও প্রচার চালাচ্ছে । 

শেষ পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী রাজ্য সরকার তাদের এই প্রচেষ্টার ফলও পেতে শুরু করে দিয়েছে , একসময় উত্তর পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যগুলির তুলনায় এইডসে সংক্রমণের দিক থেকে ত্রিপুরা ওপরের সারিতে থাকলেও এখন নেবে এসেছে সবথেকে নিচে । বর্তমানে উত্তর পূর্ব ভারতের এইডসে সংক্রমিত রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরায় সংক্রমের হার সবথেকে কমে গেছে । 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]