নিউজ ডেস্ক, তুষার বিশ্বাস, ইসলামপুরঃ-  রাজেশ সরকারের পর, তাপস বর্মণ । ইসলামপুরে ছাত্র আন্দোলনের বলি আরও এক 

বাংলা শিক্ষকের পরিবর্তে উর্দু শিক্ষক আনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতি ইসলামপুরের । ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে বন্ধ করতে পুলিশ নির্মম ভাবে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল এমনকি বুলেটও চালায় , আর তাতেই মৃত্যু হয় রাজেশ সরকার নামে এক ছাত্রের , তার বুকে গুলি লাগে । ঘটনাস্থলেই মারা যায় রাজেশ । ওপর একজন ছাত্র তাপস বর্মণের পিঠে গুলি লাগে । গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে, আজ সকালে সেখানে মারা যায় সেও । আজ ভোর ৪টে নাগাদ শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মারা যায় সে। গতকাল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে তাকে ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে শিলিগুড়ির হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। মৃত দুই ছাত্রই এবিভিপি-র সদস্য বলে জানা যায় ।  তাপসের মৃত্যুর খবর আসতেই উতপ্ত হয়ে ওঠে ইসলামপুর । উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে দোকানপাট থেকে শুরু করে সরকারি বাস । এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে আজ ১২ ঘণ্টা উত্তর দিনাজপুর জেলা বনধের ডাক দেয় বিজেপি । 

প্রসঙ্গত, ইসলামপুর ব্লকের দ্বারিভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ে উর্দু মাধ্যমের কোনও ছাত্রছাত্রী না থাকলেও সম্প্রতি বিদ্যালয়ে তিনজন উর্দু মাধ্যমের শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়। অথচ বিদ্যালয়ে প্রয়োজন বাংলা মাধ্যমের শিক্ষকের।  স্কুল লাগোয়া রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা। ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ইসলামপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।ছাত্রছাত্রীদের দাবি এর আগে পথ অবরোধ আন্দোলনে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন উর্দু শিক্ষক বিদ্যালয়ে আনা হবেনা। অথচ আজ ওই উর্দু শিক্ষকদের কাজে যোগ দেওয়াতে বিদ্যালয়ে আনতে চেষ্টা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ছাত্রছাত্রীরা জানিয়ে দিয়েছে তারা কিছুতেই বিদ্যালয়ে নিস্প্রয়োজন উর্দু শিক্ষকদের কাজে যোগ দিতে দেবেনা। তাদের যুক্তি দ্বারিভিটা বিদ্যালয়ে কোনও উর্দু মাধ্যম বা বিষয়ের ছাত্রছাত্রীই নেই। ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে বন্ধ করতে পুলিশ নির্মম ভাবে আন্দোলনরত ছাত্র ছাত্রীদের ওপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল এমনকি বুলেটও চালায় । 

বিশেষজ্ঞরা বাংলা ভাষাকে নিয়ে ইসলামপুর ব্লকের দ্বারিভিটা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলনকে বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের সাথে তুলনা করে বলছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের উপর জোরপূর্বক উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল পাকিস্তান সরকার । যার প্রতিবাদে হাজার হাজার বাঙালি আন্দোলনে নামেন । আজ পশ্চিমবাংলায় ঠিক একই চিত্র দেখা গেল, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বৈরাচারীতা ও তোষন নীতি বাঙালির মাতৃভাষাকেই আক্রমণ করল এইবার । মাতৃভাষা বাংলার জন্য আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হল দুই ছাত্র । 

শুধু এখানেই শেষ নয়, গতকাল ছাত্র আন্দোলন বন্ধের নামে পুলিশের গুলিতে দুই ছাত্রের মৃত্যু যেন ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের নিশংস হত্যার কথা মনে করিয়ে দিল । সেইসময় বাংলার মসনদে ছিল বুদ্ধদেব ভট্যাচার্য , তার নির্দেশে পুলিশ নির্মম ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল ১৪জন নিরীহ মানুষকে , আর এটাই ছিল বাংলা থেকে বামফ্রন্ট সরকারের পতনের শুরু । ঠিক তার ১১ বছর পর, আবার একই ঘটনা , এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জোর করে চাপিয়ে দেওয়া উর্দু ভাষার বিরুদ্ধে নিজেদের মাতৃ ভাষা বাংলার জন্য লড়তে গিয়ে সেই পুলিশের গুলিতেই প্রান হারাল দুই ছাত্র । কথাতেই আছে ইতিহাস কিন্তু বারবার ফিরে আসে, তাই ছাত্র খুনের এই ঘটনা যে মমতা বন্ধ্যোপাধ্যায়ের সাম্রাজ্যে বিরাট ফাটল তৈরি করতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না বলে মত প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা । 

এইবিষয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবীতে আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর এবিভিপি-র পক্ষ থেকে সারা রাজ্য জুড়ে ছাত্র বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে ।


By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]