নিউজ ডেস্ক,ত্রিপুরাঃ-

অনির্বাণ দাশগুপ্ত,“কাশ্মীর কি আমাদের দেশের বাইরে? কাশ্মীরিরা কি এদেশের নাগরিক নয়, ওরা আমাদেরই ভাই বোন নয়? নিজের দেশেই ওদের উপর আক্রমণ হচ্ছে”! গোল চোখ আরো গোল গোল, উত্তেজনায় বা ভালবাসায় যেন ঠিকরে আসবে বুদ্ধিজীবি লেখিকার!এরাই বলছে ইসলামিক কাশ্মীরের স্বাধীনতা চাই,আবার এরাই চোখ গোল গোল করে বলছে কাশ্মীর কি ভারতের বাইরে!কোন কাশ্মীরীকে দেশের কোথাও আদৌ হেনস্থা করা হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। যদি ঘটে থাকে, এই ধরনের ঘটনা কোনমতেই যে সমর্থন যোগ্য নয়, সেটা জানিয়েও এ নিয়ে দুটো কথা বলতেই হচ্ছে।এ জমি তো অবশ্যই ভারতের । এবার ওরা আমাদের ভাই বোন হলে আমরাও ওদের ভাই বোন হলাম কিনা ! এটা তো ভাইস ভার্সা। যদি তা’ই হয়, অবশিষ্ট ভারতের মানুষ দূরের কথা, কাশ্মীরের ভূমিপুত্র পাঁচ লক্ষ কাশ্মীরী পন্ডিতদের খুন করে, ধর্ষণ করে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করলো কারা?আমরা যাদের ভাই বলছি তারাই তো?আচ্ছা, তখন কোথায় ছিল এই ভার্তৃত্ব বোধ, মানবতা, একাত্ম বোধ? কোন চুলোয়?
এই কাশ্মীরের কতজন কাশ্মীরী এই ভারতকে নিজের দেশ মনে করে? ভারতীয়দের ভাই?ছবির ওরা কি মঙ্গল গ্রহ থেকে এসেছে?কেন মনে করে না, সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা এদের আছে কি?না,আমি গোঁজামিলের উত্তরের কথা,ছেঁদো যুক্তির কথা বলছি না, বলছি আসল উৎস খোঁজার কথা।এমনিতে সহজ সরল কাশ্মীরীদের বিরুদ্ধে আমার কোন ক্ষোভ নেই।এদের পূর্ব পুরুষরাও কি ঠিক এরকমই ছিল? কিন্তু কিসের প্রভাবে এরা আজ এরকম? যে আফগানদের হাত ব্যাস্ত থাকতো গান্ধার শিল্পের মতো ভাস্কর্য তৈরিতে, তাদের হাতে আজ নিরীহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত। সর্বত্রই এরকম…, কিন্তু কেন?এর উত্তর কি কখনো এদের হাতের এই ফেস্টুনের ‘দার উল ইসলাম’ শব্দগুচ্ছ দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন এই আঁতেল বুদ্ধিজীবী নিজেদের সবজান্তা ভাবা মূর্খের দল? এরা নিজেরা যেটা পরিষ্কার স্পষ্ট ভাষায় বলে দিচ্ছে, সেটা ওদের বুঝতে কষ্ট হওয়ার তো কথা নয় ।কে বোঝাবে এদের, কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদ বিচ্ছিন্ন কিছু নয়, নাইজেরিয়া, ফিলিপিন্সের সুলু,চীনের জিন জিয়াং,রাশিয়ার চেচনিয়া,মায়ানমারের রাখাইন, এমনকি অতীতের এই ভারত ভেঙে আফগানিস্তান, পরে পাকিস্তান হওয়া – সবই যে আসলে এক সুতোয় গাঁথা । কিন্তু সেই সুতো ধরে টানটা এরা কেউ দিচ্ছে না। বরং যে যেভাবে পারছে, স্থানীয় ভাবে বিচ্ছিন্ন ভাবে নানা অজুহাত দিয়ে ঢেকে রাখতে চাইছে । ভবিষ্যতে এই কাশ্মীরের মতোই এই বাংলা, আসাম সহ উত্তর পূর্ব , কেরালা বা দেশের অন্য অঞ্চলে এই দৃশ্য দেখা যাবে কিনা কে জানে!দেশভাগের আগে পরে যেভাবে পূর্ব বা পশ্চিম পাকিস্তান থেকে অবর্ণনীয় গণহত্যা গণধর্ষণের মাধ্যমে কোটি কোটি হিন্দু শিখ খ্রীষ্টান বৌদ্ধদের বিতাড়ন করা হয়েছিল, এর সঙ্গে কোন পার্থক্য নেই কাশ্মীরের পাঁচ লক্ষ কাশ্মীরী পন্ডিতদের বিতাড়নের। কোন পার্থক্য নেই, সুদূর অতীতে আরব ভূমি থেকে ইহুদী বিতাড়ন আর নাইজেরিয়া, ফিলিপিন্স,ইরাক সিরিয়া ইন্দোনেশীয়া থেকে ইয়াজিদি খ্রীষ্টান বিতাড়নের, ইরানের পার্শী বিতাড়নেরর । সব এক, সবই ঐ ‘দার উল হার্ব’ আর ‘দার উল ইসলাম’ এর সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত।‘দার উল হার্ব’ অর্থাৎ অমুসলিমদের অধিকারে থাকা দেশের কোন একটি অঞ্চলে উপযুক্ত সংখ্যা না হওয়া পর্যন্ত অবশ্য এটা ঠিক বোঝা যায় না।দেখুন, কিভাবে বিচ্ছিন্ন ভাবে আমরা ভাবি। ভাবতে বাধ্য করা হয় আমাদের, কীভাবে ভাববো ঠিক করে দেওয়া হয় সেটাও।আমরা জানি, এমনিতে খুব ভালো ছেলে আদিল শুধু পুলিশের অত্যাচারেই সন্ত্রাসী হয়ে গেছে, এমন কান্ড ঘটিয়ে ফেলেছে । এমনিতে কাশ্মীরে আর কোন সন্ত্রাসবাদী নেই, ছিলো না ! এমনিতে কাশ্মীরে যা হচ্ছে, সেটা আসলে কাশ্মীরী জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই আর কিছুটা রাজনীতি। খুব বেশি হলে পাকিস্তান করাচ্ছে!দেশভাগের আগে পরে হিন্দু আর শিখদের উপর যা হয়েছিল, সেটা ছিল ব্রিটিশ আর কিছু ক্ষমতালোভী রাজনৈতিকের চক্রান্ত । উপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগের আগে রাখাইনে রোহিঙ্গারা, জিন জিয়াং এ উইঘুররা, চেচনিয়ায় চেচেনরা যা করছিল সবটাই আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের লড়াই ।নাইজেরিয়াতে আমেরিকার উপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আমেরিকারই সৃষ্ট আই এস এর শাখা সংগঠন বোকোহারাম খ্রীষ্টান দের কচুকাটা করছে।আর ইরাক সিরিয়াতেও আমেরিকা সৃষ্ট আই এস ই আমেরিকার উপর প্রতিশোধ নিতে সেখানকার খ্রীষ্টান ইয়াজিদিদের মেরেছে, ধর্ষণ করেছে। আমেরিকা সৃষ্ট আই এস যৌনদাসী হিসাবে বেছে বেছে কেবল খ্রীষ্টান আর ইয়াজিদি নারীদের আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে, গণিমতের মাল হিসেবে বাজারে নিয়ে বিক্রি করেছে। ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশীয়াতেও ঠিক এই কারণেই খ্রীষ্টান দের উপর নির্যাতন। তেলহীন আফগানিস্তানেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ!এপার বাংলা হোক, আর এপার বাংলা ; সংখ্যালঘু হোক, আর সংখ্যাগুরু – ঐ পারে যারা নাসিরনগর, রংপুর, রামু মালোপাড়া করে, এপারেও তারাই ধুলাগড় বাদুড়িয়া দেগঙ্গা কালিয়াচক বসিরহাট করে। সবই রাজনীতি, কিন্তু রাজনীতি সব জায়গায় শুধু একটা সম্প্রদায়কে দিয়েই এসব করায়, মোহরা বানায়,বা নেহাত মূর্খ বলেই বুঝতে পারি না যে, এর সঙ্গেও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের জড়িত। দা, বোমা বন্দুক বিক্রি করতে হবে যে ! যখন যা খুশি অজুহাত দিয়ে ঢেকে রাখার চেষ্টা হচ্ছে, অথচ ঐ ফেস্টুনের লেখাটা দিয়ে ব্যাখ্যা করুন, শুধু এই একটা দিয়েই সব ব্যাখ্যা হয়ে যাবে।কে বোঝাবে এই বাস্তবটা , কারোর মোহরা হয়ে বা কোন ধর্মকে বদনাম করতে গিয়ে কেউ নিজেকে উড়িয়ে দিতে পারে না। যদি না কাল্পনিক পরকালকে ইহকালের চেয়ে অনেক বেশি লোভনীয় বলে মনে হয়। বাংলাদেশের হোলি আর্টিজেনে কোরানের আয়াত জিজ্ঞেস করে করে যারা নিরীহ মানুষদের মারছিলো, তারা কি ছদ্মবেশী ইহুদী নাসারা বা হিন্দু ছিল? তাদের কারা অত্যাচার করেছিল? তাদের কি শিক্ষার অভাব ছিল, প্রথাগত বা ধর্মীয়?সব জায়গায় অন্যদের মোহরা হওয়া এই বোকারাই অন্যদের উপর অত্যাচার করে, খুন করে, ধর্ষণ করে। আর চালাকরাই মার খেতে খেতে পিছনে সরতে থাকে। অবাক কান্ড, দিনের শেষে কিন্তু দেখা যায়, এই বোকাদের জমিই বাড়তে থাকে আর চালকদের জমি কমতে কমতে একসময় বোকাদের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। আর সেখানকার এতোদিনে সভ্যতা ধ্বংস হয়ে কায়েম হয় মধ্যযুগীয় অন্ধকার।যে মতাদর্শের প্রভাবে এরা মানুষকে কাফের আর মুমিন, এই দুই ভাগে ভাগ না করে ভাবতে পারে না ; যে মতাদর্শের প্রভাবে এরা পৃথিবীর জমিকে পর্যন্ত দার উল হার্ব আর দার উল ইসলাম এ ভাগ করে দেখে – সেটা স্বীকার না করলে, সেই মতাদর্শের প্রভাব মুক্ত না করলে সারা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্ত এভাবেই রক্তস্নাত হতে থাকবে, যা থেকে রেহাই পাবে না, পাচ্ছে না এরাও । যদিও খুব দুরূহ, তবুও সেই চেষ্টা না করে উৎসটাকে এভাবে ঢেকে রেখে মহান আঁতেল হিসাবে আত্মতুষ্টিই কেবল মিলতে পারে।যাই হোক, অশান্তি সমর্থন করি না কোনো অবস্থাতেই, নিরীহ মানুষের উপর হামলা তো নয়ই।নিরীহ মানুষকে হেনস্থা কোনমতেই কোন অবস্থাতেই সমর্থন যোগ্য নয়, বদলাও নয়। দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]