নিউজ ডেস্ক, নিউ দিল্লীঃ- মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়, যুগান্তকারী রায় সুপ্রিম কোর্টের । 

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের সাপেক্ষে ইসমাইল ফারুকি মামলায় ১৯৯৪-এ কোর্ট জানিয়েছিল, মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়। সরকার মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবই অধিগ্রহণ করতে পারে, যদি না সংশ্লিষ্ট ধর্মে তার আলাদা কোনও তাত্পর্য থাকে।  কারণ নমাজ যে কোনও জায়গাতেই পড়া যেতে পারে। কিন্তু তারপরেই রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমির ভবিষ্যৎ কি ?? তা ঠিক করতে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চের সামনে দাবি ওঠে, ১৯৯৪-এর ওই রায়ের পুনর্বিবেচনা হোক। কারণ ইসলামে মসজিদ আবশ্যিকই না হলে অযোধ্যার জমিতে মুসলিমদের দাবি নস্যাৎ করে দেওয়া হতে পারে। আর সেই পরিপেক্ষিতেই যুগান্তকারী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট, বহাল রাখল পুরনো রায়কে । জানিয়ে দিল – মসজিদ ইসলামের অপরিহার্য অংশ নয়, সরকার ইচ্ছা করলে মন্দির, মসজিদ, গির্জা সবই অধিগ্রহণ করতে পারে । 

২৭শে সেপ্টেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ বললেন, অযোধ্যার জমি বিবাদের মামলায় এই রায়ের কোনও প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না । কারণ ইসমাইল ফারুকি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের সামনে প্রশ্ন ছিল, সরকার মন্দির বা মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করতে পারে কি না ?? তবে এই রায় নিয়ে অবশ্য তিন বিচারপতি একমত ছিলেন না, প্রধান বিচারপতি মিশ্র ও বিচারপতি অশোক ভূষণ ওই রায় দিলেও উল্টো মত দিয়েছেন বিচারপতি এস আবদুল নাজির, তিনি বলেন মসজিদ ইসলামে আবশ্যিক কি না, মুসলিমদের বিশ্বাস, ধর্মাচরণ খতিয়ে দেখে তা নতুন করে সাংবিধানিক বেঞ্চে বিচার হোক। আর এখানেই আসে আসল বিতর্কিত প্রসঙ্গ । যেখানে অন্যান্য বিচারপতিরা মন্দির, মসজিদ ও গির্জা উভয় বিষয়েই সহ মত প্রসন করেছেন সেখানে বিচারপতি এস আবদুল নাজিরের এমন বক্তব্যকে ধর্মীয় নাড়া হিসাবে দেখছেন দেশের বিশেষজ্ঞরা ।   

এদিন রামমন্দির নির্মাণ ঘিরে আগামী লোকসভা ভোটে যতই সরগরম থাকুক না কেন— একে নিছক জমি বিবাদের মামলা হিসেবেই দেখা হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। অক্টোবরের শেষ থেকে ফের মূল মামলার শুনানি শুরু হবে। তবে বিজেপি, আরএসএস, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ মনে করছে, এ দিনের রায়ের ফলে রামমন্দিরের পথে বাধা কেটে গেল। লোকসভা ভোটের আগেই রামমন্দির তৈরিতে সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সঙ্কেত মিলে যাবে। রামমন্দির আবেগকে পুঁজি করেই বিজেপি ভোটের ময়দানে নামতে পারবে তারা । অপরদিকে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের বিরোধীতা করে মুসলিম সংগঠনগুলি জানায়, ধর্মস্থানের গুরুত্বের তুলনামূলক বিচার চলে না, তাই আমরা এই রায়কে মানি না । 

উল্লেখ্য, গত কিছুদিন আগেই সংবিধানে পাশ হওয়া তিন তালাক আইন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরি বলেছিলেন, তিনি সংবিধান মানেন না , তাই তারা চলবে কোরানের আদেশে সংবিধান এর আদেশে নয় । মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরির ভারত বিরোধী এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া আদেশকে মুসলিম সংগঠনগুলির না মানার প্রসঙ্গকে, ভারতের বুকে মুসলিম দ্বৌরাত্ব যে দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই সাথে বৃদ্ধি পাচ্ছে ভারতবিরোধীদের সংখ্যাও, তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলেও জানায় বিশেষজ্ঞ মহল ।  


By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]