নিউজ ডেস্ক, অভিষেক চক্রবর্তী, পশ্চিম মেদিনীপুরঃ– নদী গর্ভ থেকে বালি উত্তোলনে রয়েছে সরকারি নির্দেশিকা, কিন্তু সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বৈধ ব্যবসার আড়ালে নিয়ে চলছে বালি মাফিয়া রাজ।

 

এমনই ছবি ধরা পড়ল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কংসাবতী নদীর তীরবর্তী বালি খাদানগুলিতে । সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নদী গর্ভ থেকে বালি উত্তোলন করতে হবে শ্রমিকদের মাধ্যমে ঝুড়ি দিয়ে, মাইনিং মেশিন ব্যবহার করে বালি উত্তোলন নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হচ্ছে কোথায়, নদী গর্ভ থেকে সাকশন পাইপে করে মেশিন লাগিয়ে তোলা হচ্ছে বিপুল পরিমাণে বালি । যে বালি ট্রাক্টর বা বড় লরিতে লোড হয় শহরের মধ্যে দিয়ে চলে যাচ্ছে অন্যত্র। বালি লোড এর ক্ষেত্রেও চুরির অভিযোগ। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী ছোট গাড়িতে 110 সিএফটি এবং বড় গাড়িতে 330 সিএফটি বালি এর কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক বেশি পরিমাণে বালি বোঝাই করছে গাড়িগুলি । এতে একদিকে যেমন রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে গ্রাম সড়ক থেকে রাজ্য সড়ক। 

নজরদারি যে ঠিক কতটা অভাব রয়েছে তা বোঝা গেল খাদান গুলিতে যেতেই। সিসিটিভি তো দূর অস্ত দেখা মিলল না কোন সরকারি লোকজনেরই।প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক গুলিতে বারবার করে বালি খাদান নিয়ে সরব হয়েছে। বেনিয়ম রুখতে কড়া বার্তা দিয়েছেন দফতরের আধিকারিকদেরও। তার পরেও হুঁশ ফেরেনি কারুর। 

ফাঁকফোকর যে রয়েছে তা মেনে নিচ্ছেন জেলা ভূমি সংস্কার দপ্তর এর আধিকারিক উত্তম কুমার অধিকারিও । উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুরে এই মুহূর্তে বৈধ বালি খাদান এর সংখ্যা ৭৪, আরো ৩৪ টি বালি খাদান এর অকশন করার প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এছাড়াও অবৈধ বালি খাদানো যে এখনো সক্রিয় সেটাও মেনে নিয়েছেন আধিকারিক। অবৈধ বালি খাদান রুখতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালাচ্ছেন দফতরের আধিকারিকরা। কিন্তু বৈধ বালি খাদান এর আড়ালে অবৈধ চক্র এটা সামলাতে যে আরও কিছুটা সময় লাগবে তা কার্যত মেনে নিয়েছেন তিনি। 

সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরও ঘুরপথে বালি মাফিয়া যে রাজ চালাবে তা একরকম পরিষ্কার । এরপর সরকার কতটা সদর থাক ভূমিকা নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয় ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]