গত মঙ্গলবার প্রবল বর্ষণে ভেঙ্গে যায় কৈলাশহর বিমানবন্দর সংলগ্ন মনু নদীর বাঁধ, আর তাতেই ভেসে যায় পাইতুরবাজার , দুর্গাপুর , কালিপুর সহ কৈলাশহরের বিস্তীর্ণ অঞ্চল , বিপর্যস্ত হয়ে পরে সড়ক , বিদ্যুৎ ও টেলিফোন পরিষেবা । 



জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেয় বন্যা দুর্গতরা । ইতিমধ্যে ২বার এসে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সহ রাজ্যের অন্যান্য বিজেপি নেতৃত্বরা । সেইসাথে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সারাদিন বন্যা দুর্গতদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন উনকুটি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকরাও । এলাকা পরিদর্শনে এসে কর্তব্যে গাফিলতির জন্য মুখ্যমন্ত্রী কৈলাশহর ও কুমারঘাটের প্রশাসনিক আধিকারিককে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন ও সেই সাথে দুর্গতদের প্রতিদিন ২০০০ টাকা ও পরে ৯৫০০০ করে টাকা দেওয়ার ঘোষণাও করেন ।সেইসাথে বন্যা মোকাবিলায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে কেন্দ্র সরকার বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রিয় বাহিনী ও NDRF টিম পাঠিয়েছে ।  

কিন্তু তাতেও অভিশাপ কাটেনি কৈলাশহরবাসীদের । কৈলাশহর বিমানবন্দর সংলগ্ন মনু নদীর বাঁধ ভাঙ্গার পর কৈলাশহরবাসীদের একমাত্র অবলম্বন গোবিন্দপুর বাঁধের অবস্থাও আশঙ্কাজনক, যে কোন মুহূর্তে জলের তোড়ে ভেঙে যেতে পারে বাঁধ । আর যদি এই বাঁধও ভেঙে যায় তবে কৈলাশহর “জলশহর”এ পরিণত হবে । ডুবে যাবে অবশিষ্ট এলাকাও , তাই এলাকাবাসীরা প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে নিজেরাই নেমে পড়েছে বাঁধ মেরামতির কাজে । বালিরবস্তা , ভাঙ্গা ইটের সাহায্যে বাঁধের মাটিকে শক্ত রাখার কাজ করছে তারা । 

এদিকে গোবিন্দপুর বাঁধের অবস্থা খারাপ হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই বাঁধ মেরামতির কাজ তদারকি করতে ও দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য কৈলাশহর ছুটে যান রাজ্য বিজেপি সাধারন সম্পাদিকা প্রতিমা ভৌমিক , যুব সভাপতি টিঙ্কু রায় সহ আরও অনেকে । বন্যা দুর্গতদের সাহাযার্থে এগিয়ে এসে আশেপাশের মহাকুমা ও জেলার অনেক স্বেচ্ছাসেবি সংস্থাও । ইতিমধ্যে বন্যা দুর্গতদের পানীয় জল পরিষেবার দ্বায়িত্ব নিয়েছে Cloud 99 নামক পানীয় জল প্রস্তুতকারী সংস্থা এর পাশাপাশি Lions Club Of Dharmanagar-এর পক্ষ থেকে আজ বন্যা দুর্গত এলাকায় পোষাক , খাদ্য ও কিছু আর্থিক সাহায্যও করা হয় । 
     

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]