নিউজ ডেস্ক, কল্কাতাঃ- বিজেপি করলে নাকি গাঁজা কেস দিয়ে আটক করানো হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে । 

ঘটনা বীরভূমের, যেখানকার রাজা তৃণমূলের উন্নয়নের প্রধান মুখ তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল । রবিবার বীরভূম জেলা কমিটির বৈঠকে তিনি এক বিজেপি মহিলা কর্মীর উদ্দেশ্যে নিজদলীয় কর্মীদের নির্দেশ দেন “সঙ্গীতা! ও বিজেপি করে। ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দে। গাঁজা কেস দিয়ে…” তাঁর বক্তব্য শুনে রাজনৈতিক মহলের অনেকে মনে করছেন যতই অনুব্রত মণ্ডল উন্নয়ন উন্নয়ন করে চেঁচাক না কেন, লালমাটির জেলায় এ বার ঘাসফুলের জমিতে পদ্মের কুড়ি ফোঁটায়, মাথা খারাপ হয়ে গেছে তৃণমূল বীরভূম জেলা সভাপতির ।
বৈঠক চলাকালীন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল নিজ কর্মীদের বলে ওঠেন “ ফাইভ ম্যান কমিটি থেকে একজনকে বাদ দেব না! ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দে। ওই যে মেয়েটার কী নাম …মোটা করে মেয়েটা, কাপড়ের দোকান আছে!” বৈঠকে আসা এক নেতা উত্তর দেন, ওনার নাম সঙ্গীতা। সেই উত্তর শুনে অনুব্রতর বক্তব্য, “সঙ্গীতা! ও বিজেপি করে। ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দে। গাঁজা কেস দিয়ে…”  এরপরেই অনুব্রতর আবার প্রশ্ন করেন , “কন্ট্রোল করতে পারবি তো ? না পারলে বল আজকেই ঢুকিয়ে দিচ্ছি।” কিন্তু এখন প্রশ্ন হল কারা সেই দু’জন? যাঁদের কন্ট্রোল করতে পারছেন না স্বয়ং কেষ্টদাও ?

সূত্রের খবর অনুসারে ফাইভ ম্যান কমিটি থেকে বাদ দেওয়া শাসক দলের নেতার নাম উজ্বল চট্টোপাধ্যায় আর অন্য জন সঙ্গীতা চক্রবর্তী। এই দু’জনেই বর্ধমানের আউশগ্রামের নেতা-নেত্রী। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডল তো বীরভূমের সভাপতি । বর্ধমানের নেতাদের নিয়ে তাঁর এত মাথা ব্যথা কেন? কারন আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রটি বোলপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। শুধু আউশগ্রামই নয়, কেতুগ্রাম ও মঙ্গলকোটও বোলপুর লোকসভার মধ্যে পড়ে। কিন্তু প্রশ্ন একটাই কেন এই দুজনের উপর অনুব্রতর এত রাগ ? জেলা তৃণমূল সূত্রের খবর উজ্বল চট্টোপাধ্যায়ের মামা ছিলেন পূর্ব বর্ধমানের বিল্লোগ্রামের শাসক দলের অঞ্চল সভাপতি। মাস দুই আগে খুন হন আজকে অনুব্রতর রোষে পড়ে প্রান খোয়াতে  হয় উজ্বল চট্টোপাধ্যায়ের মামা। এরপরই মামার খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে সরব হন উজ্বল চট্টোপাধ্যায় । কিন্তু খুনিদের শাস্তি তো দূরের কথা ,খুনিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ অপরদিকে, উজ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর বেকায়দায় পড়তে হয় নিজেকে মানবাধিকারকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া সঙ্গীতাদেবীকে। এরপরই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে ক্রমশ বিজেপি’র দিকে যেতে থাকেন সঙ্গীতাদেবী বলে জানা যায় । একসময় সঙ্গীতাদেবী এও অভিযোগ করেছিলেন যে, বছর দেড়েক আগেই তাঁকে মেরে হাত পা ভেঙে দিয়েছিল শাসক দলের দুষ্কৃতীরা। তাঁর শরীরে প্লেট বসানো আছে বলেও দাবি করেন তিনি সেইসাথে তাঁর দোকান লুট এবং বাড়িতে বোমা মারার অভিযোগ করে সঙ্গীতা চক্রবর্তী বলেন, “এর পুরো প্ররোচনা দিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।” প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতির রবিবারের এই মন্তব্য মাস দুয়েক আগে বাঁকুড়া থেকে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের এক ঘনিষ্ঠকেও গাঁজা কেসে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তখন মুকুল সহ বিজেপি নেতারা বলেছিলেন, কিছু না পেলেই এখন গাঁজা কেস দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ, সেই ঘটনার কথা আরও একবার মনে করিয়ে দিল । 

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিশেষজ্ঞ মহল থেকে প্রশ্ন জঙ্গলমহলের মতো তবেকি বীরভূম-বর্ধমানেও তৃণমূলের নেতারা তলায় তলায় পদ্ম শিবিরে ভিড়ে যাচ্ছেন? ঘাসের বনে কি পদ্ম জন্মাচ্ছে ? আর তাতেই কি তৃণমূলের উন্নয়নের মুখ এভাবে ক্রমশ কন্ট্রোল হারাচ্ছেন ?? 

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]