নিউজ ডেস্ক, কলকাতাঃ- বাড়ল নম্বর, মাধ্যমিকের থার্ড বয় হয়ে গেল ফার্স্ট বয় । 

চাকদহ রামলাল অ্যাকাডেমির ছাত্র শুভ্রজিত মণ্ডল ২০১৬ সালে মাধ্যমিকে ৬৮১ নম্বর পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল । কিন্তু অন্যান্য বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর মনমত হলেও, ইংরেজি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর নিয়ে যেন কিছুতেই খুশি ছিল না শুভ্রজিত । ইংরেজি বিষয়ে তার প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৮৩, সেই নম্বর দেখে অখুশি শুভ্রজিত উত্তরপত্র দেখতে চেয়ে আবেদন করে । উত্তরপত্র পেয়ে শুভ্রজিত দেখে, ইংরেজি বিষয়ে স্ক্রুটিনি অফিসার দু’টি প্রশ্নের উত্তরে ১ নম্বর করে মোট ২ নম্বর কেটেছেন । যারফলে তার ৮৫ পাওয়ার কথা থাকলেও, পেয়েছে ৮৩ । এর পর শুভ্রজিতের বাবা বিশ্বজিৎ মণ্ডল কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন, যেখানে যুক্তি দেওয়া হয় স্ক্রুটিনি অফিসারের নম্বর কাটার অধিকার নেই, নম্বর যদি কাটতে হয় তবে তা শুধুমাত্র হেড এগজামিনার করতে পারেন । বিচারপতি এস বি শরাফের এজলাসে মামলা ওঠে, শুভ্রজিতের পক্ষে তার আইনজীবীর দেওয়া সব যুক্তি খতিয়ে দেখে বিচারক ।    

এরপর বিচারক এস বি শরাফ রায় দেন, নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন না করে শুভ্রজিত মণ্ডলের প্রাপ্ত নম্বর কেটে নেওয়া হয়েছে, তাই মধ্যশিক্ষা পর্ষদ-কে ৪২ দিনের মধ্যে ২ নম্বর বাড়িয়ে ওই ছাত্রকে নতুন মার্কশিট দিতে হবে। ২ নম্বর যুক্ত হওয়া নতুন মার্কশিট পেলে শুভ্রজিত মণ্ডলের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১ থেকে বেড়ে ৬৮৩ হওয়া যাবে । যারফলে শুভ্রজিত কোচবিহার মাথাভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের সৌভিক বর্মণের সাথে যুগ্ম প্রথম স্থান লাভ করবে ।     

২০১৬ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার স্ক্রুটিনি অফিসারের নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তৃতীয় স্থানাধিকারী শুভ্রজিত মণ্ডলের ইংরেজি বিষয় থেকে কেটে নেওয়া ২ নম্বর আদালতের নির্দেশে পুনরায় যুক্ত হতে চলায়,  তৃতীয় স্থানাধিকারী হতে চলেছেন প্রথম স্থানাধিকারী ।  শুধু তাই নয়, এই ঘটনার পর মধ্যশিক্ষা পর্ষদের খামখেয়ালিপনাও সামনে চলে আসল, যে কিভাবে  নিয়ম বহির্ভূত ভাবে খাতা দেখা হচ্ছে । শুভ্রজিত মণ্ডল তো একজন, হতেও তো পারে আরও কত ভুলে ভরা রয়েছে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর প্রাপ্ত নম্বরে ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]