নিউজ ডেস্ক,নয়া দিল্লীঃ-

পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস ছিল পূর্ণ স্বরাজ দিবস ।১৯৪৭ সালের পর হয়েছিল এমনই উলটপুরান,১৯৪৭ এর আগে পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী এবং কংগ্রেসিদের কাছে পূর্ণ স্বরাজ দিবস বা পূর্ণ স্বাধীনতা দিবস ছিল ২৬ জানুয়ারি দিনটিই।সেটাই বদলে যায় ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের পর। ১৯৫০ সাল থেকে ২৬ জানুয়ারি পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে,এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবসের ৭০ বছর পূর্ণ হল।ঘটনাটি ১৯৪৭ সালের বেশ কিছুটা আগের। ১৯২৯ সালে ডিসেম্বর মাসে লাহোরে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তর্ক এবং বিতর্কের পর সিদ্ধান্ত হয় ত্যাগ স্বীকার এবং সংগ্রামের মাধ্যমেই আসবে স্বাধীনতা,আর নয় আপোষ। তাই বিপ্লবের পথ বেছে নিয়েছিল কংগ্রেস। ব্রিটিশদের সমস্ত কূটনৈতিক চাল বানচাল করে দিয়েই শুরু হয়েছিল এই বিপ্লবের পথ চলা।
পূর্ণ স্বরাজের দাবীদাররা ১৯২৯ সালের একত্রিশে ডিসেম্বর মাঝ রাতে রাভি নদীর তীরে তেরঙ্গা উত্তোলন করেন। তখন তেরঙ্গার মধ্যে ছিল গান্ধীজীর চরকা,এটাই ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা।এরপর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি পূর্ণ স্বরাজ দিবস পালন করার দাক দেওয়া হয়েছিল।দেশের স্বাধীনতা দিবস হিসাবে সেই দিনটিকেই পেতে চেয়েছিল কংগ্রেস।নেহরুরা চেয়েছিলেন পূর্ণ স্বরাজই হোক স্বাধীনতা দিবস।১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে বার্তা। শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র পূর্ণস্বরাজ দিবস পালনের উদ্যোগ শুরু হয়ে গিয়েছিল। গান্ধীজী শপথবাক্য লিখে পাঠিয়েছিলেন পূর্ণ স্বরাজের জন্য।সেই থেকে শুরু।এরপর থেকে প্রতি বছর সারা দেশে পূর্ণ স্বরাজ দিবস পালন করতেন কংগ্রেস কর্মীরা।পূর্ণ স্বাধীনতার দিবস।১৯৪৭ সালের পর থেকে এই দিনটি বদলে যায়। ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও লর্ড মাউন্টব্যাটেন ছিলেন গভর্ণর জেনারেল এবং ষষ্ঠ জর্জ দেশের প্রধান হিসেবে তখনও বহাল ছিলেন। তখনও দেশে ছিল না কোনো স্থায়ী সংবিধান,দেশ শাসনের কাজ চলছিল ঔপনিবেশিক ভারত শাসন আইনের কিছু রদবদল ঘটিয়ে।১৯৪৭ সালে স্থায়ী সংবিধান রচনার জন্য ড্রাফটিং কমিটি গঠিত হয়। এই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন বাবা সাহেব আম্বেদকর।১৯৪৭ সালের ৪ঠা নভেম্বর কমিটি একটি খসড়া সংবিধান তৈরি করে গণপরিষদে জমা দেয়।চূড়ান্ত সংবিধান গ্রহণ করার আগে দুই বছর এগার মাস আঠার দিনে গণপরিষদ এই খসড়া সংবিধান আলোচনার জন্য ১৬৬ বার অধিবেশন ডাকে। এই অধিবেশন গুলিতে জনগনের অবাধ প্রবেশাধিকার ছিল।অনেক বিতর্ক ও সংশোধনের পর ১৯৫০ সালের চব্বিশে জানুয়ারি গণপরিষদের তিনশ আট জন সদস্য চূড়ান্ত সংবিধানের হাতে লিখা দুটি নথিতে স্বাক্ষর করেন। এর দু দিন পরই  ২৬ জানুয়ারি সারা দেশে প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]