নিউজ ডেস্ক,নয়া দিল্লীঃ-

শত্রুপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ জয় করে প্রায় আটচল্লিশ ঘণ্টা পর ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এল।বীরের মত দেশে প্রবেশ করল অভিনন্দন বর্ধমান।কিন্তু এই যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি৷দেশে ফেরার পর অন্য এক পরীক্ষার মুখমুখি বসতে হবে তাঁকে৷ঠিক সীতার অগ্নিপরীক্ষার মত।

তাঁর সাহসিকতা এখন সারা বিশ্ব বন্দিত।তিনি আর কেউ নন তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্ধমান৷তিনি ১৯৭০ সালের তৈরি পুরনো মিগ-২১ নিয়ে অত্যাধুনিক পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬কে তাড়া করে সে দেশে ঢুকে পড়ে পাক সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হন৷অসীম সাহসের পরিচয় দিয়েছেন অভিনন্দন বর্তমান।দেশে ফিরে অগ্নিপরীক্ষার মুখে বায়ুসেনার এই উইং কমান্ডার৷ দু’দিনের বেশি সময় শত্রু পক্ষের মাঝে কাটিয়ে এসেছেন তিনি৷অভিনন্দন যেহেতু যুদ্ধবন্দি ছিলেন সেইহেতু বায়ুসেনার নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে কিছু পরীক্ষা দিতে হবে৷আসুন জেনে নেওয়া যাক কি সেই পরীক্ষা।
.প্রথমেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হবে ভারতীয় বায়ুসেনার গোয়েন্দা ইউনিটের কাছে৷
.বেশ কিছু ডাক্তারি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে অভিনন্দনকে। দেখা হবে তিনি ফিট কিনা।
.শত্রুপক্ষ বন্দিদের শরীরে অনেকসময় মাইক্রোচিপ ঢুকিয়ে দেয়, যার মাধ্যমে আড়ি পেতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতিয়ে নেয় শত্রুপক্ষ। অভিনন্দনের শরীরে সেরকম কোনও চিপ বসানো হয়েছে কিনা, তা স্ক্যান কেরে দেখা হবে।
.অভিনন্দনকে জেরা করতে আনা হতে পারে আইবি এবং র আধিকারিকদেরও। তবে সচরাচর পাইলটদের তাঁদের হাতে তুলে দেয় না বায়ুসেনা।তাই অভিনন্দনের ক্ষেত্রে তা নাও হতে পারে।
.পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখা থেকে শুরু করে ওয়াঘা আটারি সীমান্ত পার করা অব্দি,গোয়েন্দাদের কাছে প্রতি মুহুর্তের সবিস্তার বর্ণনা দিতে হবে।বন্দি অবস্থায় তাঁর কাছে শত্রুপক্ষ কী কী জানতে চেয়েছে,তাও জানাতে হবে অভিনন্দনকে।
.বিমানে ওঠা থেকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিমান ভেঙে পড়া পর্যন্ত গোটা ঘটনার পুনর্নির্মাণ করবেন গোয়েন্দারা।
.পাক সেনাবাহিনী তাঁর বিমানকে নিশানা করতে কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল,সেটাও জানার চেষ্টা করা হবে।তাঁর সঙ্গে থাকা কোন কি নথি তিনি নষ্ট করতে পেরেছিলেন এবং পাক সেনার হাতে কী কী নথি পৌঁছেছে তারও একটি তালিকা তৈরি করা হবে।
.মনোবিদের কাছেও নিয়ে যাওয়া হবে অভিনন্দনকে।বন্দি অবস্থায় ভারতের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য উদ্ধার করতে শত্রুপক্ষ তাঁকে অত্যাচার করেছে কিনা তা জানার চেষ্টা করা হবে।শত্রু শিবিরে কোনও ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সন্মুখিন হতে হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে ।
.শত্রুপক্ষের হাতে বন্দি ছিলেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন,সেখানে তাঁকে আপোসের কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল কি না, তাঁকে ব্যবহার করার কোনও চক্রান্ত করা হয়েছি কি না সে বিষয়ে জানার হওয়ার চেষ্টা করবে গোয়েন্দারা।
এই গোটা পদ্ধতিকে সামরিক পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিব্রিফিং’।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]