নিউজ ডেস্ক, কেরালাঃ-  কেরালার বন্যা স্মরণকালে ভারতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ এক দুর্যোগ। ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টি জলের তলায় । এখনও পর্যন্ত সরকারি হিসাবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে গোটা রাজ্যে । 

      ছবি সংগৃহীত 

বন্যা পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রাণ ও আর্থিক সাহায্যও পৌঁছাতে শুরু করেছে কেরালায় তারসাথে এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরসাহির কেরলের বন্যা দুর্গতদের সহায়তায় ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা গ্রহণ না করা নিয়ে শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নানান তরজা । কেরালার এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অধিকাংশ মসজিদ যারফলে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি কেরালার অধিকাংশ মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ, ফলে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলিম বিরোধিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে আর তার মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরসাহির তরফ থেকে জানান হয় তারা কেরালাকে কোন প্রকার আর্থিক সাহায্যের ঘোষণাই করেনি , সম্পূর্ণটাই ভুয়ো খবর । 

তবে এই হিন্দু-মুসলিম , ভারত-আরব তরজার মধ্যেই সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল হিন্দুরা । পুরাপ্পিল্লিকাভু রক্তেশ্বরী মন্দিরের দরজার তারা খুলে দিয়েছেন মুসলিমদের ঈদের জন্য , পৃথিবীর ইতিহাসে এই প্রথম কোন হিন্দু মন্দিরে পাঠ হল ঈদের নামাজ । ভারতবর্ষের চারিদিকে যখন মুসলিমদের হাতে আক্রান্ত হিন্দু দেব-দেবী সহ হিন্দুরা , কাশ্মীরে যখন মুসলিম জিহাদিদের আক্রমনে প্রতিদিন প্রান হারাচ্ছেন ভারতের বীর জাওয়ানরা সহ কাশ্মীরের সাধারন মানুষ ঠিক সেই মুহূর্তে কেরালায় হিন্দু মন্দিরে মুসলিমদের নামাজ পড়তে দিয়ে ইতিহাস তৈরি করল হিন্দুরা । সেইসাথে প্রমান করে দিল যে তারা মুসলিম বিরোধী নয় । 


📍Eid prayers at Purappullikkavu Temple, Eravathur, #Thrissur

📍Sisters get mehndi by Muslim inmates to celebrate Eid-al-Adha. #Kodungallur Snehalaya Relief Camp

📍#KeralaFloods victims belonging to Christian community holding holy mass inside a Mosque in Kakkanad.#Kerala pic.twitter.com/F5awVdbc8G

— Sunil Ananthapuri (@sunilupdate) August 22, 2018

এই বিষয় নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে কথা বলা হলে, জানান হয় “জাতি , ধর্ম, বর্ণের আগে আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা মানুষ”। শুধু এরকম দুর্যোগে পড়ে নয়, সবসময়ই আমাদের স্মরণে রাখা উচিৎ যে আমরা একই ঈশ্বরের সন্তান। আশা করি এই সম্প্রীতির বন্ধন অব্যাহত থাকবে আগামী দিনগুলোতেও, যাতে করে এখনও যেসব মানুষের সাহায্য প্রয়োজন তাদের জন্য আমরা সকলে সংঘবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পারি। সেখানকার মুসলিমদের তরফ থেকেও ধন্যবাদ জানান হয় মন্দির কমিটি ও এলাকার আপামর হিন্দুদের । জানা যায়, প্রায় ২০০ জন মানুষ একসঙ্গে নামাজ পরেন ওই মন্দিরের হলে , নামাজ পাঠরত একজনের বক্তব্য, ‘আমরা প্রায় ২ ঘণ্টা সেখানে ছিলাম, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা নামাজ পড়েছি। মন্দির কমিটি আমাদের জন্যে পানি এবং খাদ্যের ব্যবস্থা করেছে। সবমিলিয়ে এত বড় একটি দুর্যোগ এসে যেন আরও একবার সবার সামনে দিনের আলোর মত পরিষ্কার করে দিল যে, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই ।  

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]