নিউজ ডেস্ক, আগরতলা আগরতলা:- কেরলের বন্যা দুর্গতদের জন্য এবার রাস্তায় নামলেন রাজ্যের সিপিএম দল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের নেতৃত্বে আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অনুদান সংগ্রহ কর্মসূচি করা হয় ।


বিগত কিছুদিন ধরে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছে কেরলের ১৪ টি জেলার মধ্যে ১৩ টি জেলা সেই অবস্থায় বানভাসি কালকে বাঁচাতে অনুদান পাঠিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা । শুধু এখানেই শেষ নয় অনুদান এসেছে ভারতীয় অভিনেতা , প্রভাবশালী ব্যক্তি,খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিদেশি খেলোয়াড় ও অন্যান্য রাষ্ট্র থেকেও । সেই মুহূর্তে কেরল কে সাহায্যের জন্য রাজ্যের রাজপথে নামল রাজ্য সিপিএম কিন্তু এতেও সমালোচনা পিছু ছাড়লো না মানিক সরকারদের ।

উল্লেখ্য মাস দুয়েক আগে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছিল ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলাটি । প্রবল বৃষ্টিপাত ও বাঁধ ভাঙার ফলে সর্বহারা হয়ে পড়ে  ঊনকোটির সাধারণ মানুষ , সেই মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য নেতা-নেত্রীরাও সারাদিন ধরে ঊনকোটি তে সাধারণ মানুষের পাশে ও বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে হাজির থাকলেও দেখা যায়নি কোনো সিপিএমে থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী  তথা সিপিআইএম পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকারকে ।


যদিও এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট এবার মানুষের রায় ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে কিন্তু ঊনকোটি বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাগুলি পড়েছিল সিপিআইএমের জেতা আসনগুলির মধ্যে একটিতে , কিন্তু তা সত্বেও বন্যা বিধ্বস্ত ঊনকোটি জেলাকে একবারের জন্য দেখতে পর্যন্ত আসেনি রাজ্য বামফ্রন্টের তাবড় তাবড় নেতৃত্বরা । সাহায্য করা তো অনেক দূরের কথা বন্যা কমে যাওয়ার পর লোক দেখানোর জন্য কিছু চুনোপুটি নেতা বর্তমান রাজ্য সরকারের বদনাম করতে সঠিক সময় অবশ্যই হাজির হয়েছিল ।

এখন প্রশ্ন একটাই বামফ্রন্টের আসল ভালোবাসা টা কোথায় সাধারণ মানুষ নাকি ক্ষমতা ? বিশেষজ্ঞদের মতে যেহেতু ত্রিপুরার মানুষ বামফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছিল তাই ঊনকোটি বন্যাতে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, কারণ ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ বামপন্থীদের বিপক্ষে রায় দিয়েছিল । কিন্তু বর্তমানে কেরলের এই ভয়াবহ অবস্থার পাশে যখন সব রাজ্য থেকে শুরু করে সারা দেশ এবং বিদেশ দাঁড়িয়েছে ঠিক সেই মুহূর্তে কেরালার বন্যার্তদের জন্য অনুদান সংগ্রহ করতে রাস্তায় নামলেন রাজ্যের বামফ্রন্টের কান্ডারী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ।


এই ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সমালোচনার ঝড় শুরু হয় গোটা রাজ্যে, প্রশ্ন উঠতে থাকে শুধুমাত্র কেরলে বামফ্রন্টের এখনো রাজত্ব রয়েছে বলেই কি রাজ্যের বাম ফোন নেতৃত্বে মনে এত দুঃখ ? কিন্তু যখন নিজের রাজ্যের একটি জেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সর্বহারা হয়েছিল জেলার ৮০% মানুষ সেই সময় ভালো মানুষের মুখোশ ধারী নেতারা কোথায় ছিলেন ? শুধুমাত্র কি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন বলেই রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন বোধ করেননি এরা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো গভীর রহস্য ?? সেটাই জানতে চায় ত্রিপুরার আপামর জনতা ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]