নিউজ ডেস্ক, বিশেষ প্রতিবেদনঃ- ইসলামপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্র খুন নিয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন 


পশ্চিমবঙ্গ এখন এমন একটা রাজ্য হয়ে উঠেছে, যেখানে মদ খেয়ে কেও মারা গেলে মোমবাতি হাতে নিয়ে মিছিলে হাটে তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা অথচ নিজেদের ভাষাকে নিয়ে লড়তে গিয়ে পুলিশের গুলিতে ইসলামপুরের দুই ছাত্র শহীদ হলেও, মোমবাতি হাতে মিছিল তো দূরের কথা, এবিষয় নিয়ে কোন মন্তব্য করতেও দেখা গেল না পশ্চিমবঙ্গের কোন বুদ্ধিজীবিদের । বিষয়টি কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ, কারন এই ঘটনার পর সমালোচকরা পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবিদের সরাসরি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পৃষ্ঠপোষক বলে অভিযোগ তুলেছে , এই বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতেও ইতিমধ্যে অনেক লেখা লেখিও লক্ষ্য করা গেছে । এতকিছুর পরও কিন্তু মুখ খুলতে দেখা যায়নি কাওকে ।

অপরদিকে বাংলাদেশের নির্বাসিত বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন কিন্তু ছাত্র খুন নিয়ে মুখ খুললেন, আর শুধু মুখ খুললেন-ই না টেনে আনলেন ১৯৫২ সালের বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রসঙ্গ । ২১শে সেপ্টেম্বর নিজের টুইটার ওয়ালে তসলিমা নাসরিন মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল সরকারকে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে তুলনা করে লেখেন “১৯৫২ সালে পাকিস্তান সরকার উর্দুকে আমাদের জাতীয় ভাষা হিসাবে ঘোষণা করেছিল, আমরা বাঙালিরা প্রতিবাদ করেছিলাম, পুলিশ আমাদের অনেককেই গুলি করে হত্যা করেছিল। ২০১৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের স্কুলে উর্দূ শিক্ষক পাঠালো কিন্তু আমাদের স্কুলে বাংলার কোনও শিক্ষক নেই। আমরা বাংলা শিক্ষকের জন্য দাবি জানালাম, পুলিশ আমাদের হত্যা করল” ।  
In 1952 Pakistan declared Urdu to be our state language, we Bengalis protested, police killed many of us. In 2018, West Bengal govt sent a Urdu teacher to our school, but we have no Bengali teacher. We demanded for a Bengali teacher. Police killed one of us. pic.twitter.com/ds05Pr2ktT

— taslima nasreen (@taslimanasreen) September 21, 2018


উল্লেখ্য, দুদিন আগে দারিভিট হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলে তৃণমূল সদস্য তথা গায়ক কবির সুমন নিজের ফেসবুক ওয়ালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এর জন্য দায়ী করে জবাব চেয়েছিলেন , কিন্তু কোন অগ্যাত কারন বশত পোস্ট করার কিছুক্ষন পরেই নিজের ফেসবুক একাউন্ট ডিলিট করে দেন কবির সুমন কিন্তু নিজের টুইটার ওয়ালে দারিভিট হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে মুখ খুলে তসলিমা নাসরিনের করা পোস্টই এত বিতর্কের মধ্যেই এখনো জ্বলজ্বল করছে । যারফলে পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবিদের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমান ফুটে উঠেছে বলে অভিমত দিচ্ছেন সমালোচকরা ।  


প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর কলকাতায় থাকাকালীন, বাম আমলে মুসলিম মৌলবাদীদের চাপে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন তসলিমা। তারপর তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি একাধিক বার এই শহরে ফিরতে চেয়েও সফল হননি তিনি , নিজে মুসলিম হয়েও মুসলিম মৌলবাদের জঘন্য রূপটাকে সকলের সামনে তুলে ধরার অপরাধেই তার কপালে জুটেছে এত অত্যাচার ।  মুসলিম মৌলবাদের বিরুদ্ধে সরব এই লেখিকা বর্তমান রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু নীতি নিয়ে‌ এর আগেও একাধিকবার নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This is todays COVID data

[covid-data]